নিজস্ব প্রতিবেদক:
ধামাইল নৃত্যের প্রবর্তক রাধারমণ দত্তের সমাধি চত্বরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে আজ রোজ মঙ্গলবার ২৬ মে পালিত হয়েছে ধামাইল দিবস ও রাধারমণ দত্ত স্মরণ দিবস। ধামাইল নৃত্যের প্রবর্তক, বৈষ্ণব সাধক ও লোককবি রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে অবস্থিত রাধারমণ দত্তের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করে হবিগঞ্জ জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠন “ধামালি চুনারুঘাট”। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, স্মরণানুষ্ঠান ও রাধারমণের গান পরিবেশনা।
এ বছর সংগঠনটির পক্ষ থেকে ধামাইল শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রখ্যাত ধামাইল শিল্পী সুনামগঞ্জের কুমকুম চন্দকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এসময় সাংস্কৃতিক সংগঠক রাধারমণ অনুরাগী গীতিকার রাজিব কান্তি দে (আর.কে বাবু)সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার রাধারমন অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও রাধারমণ দত্তের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ‘হাছনরাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ’, “বাংলাদেশ ধামাইল উন্নয়ন পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি”, ‘রাইবিনোদিনী ধামাইল সংঘ’, ‘কৃষ্ণকলি ধামাইল সংঘ’, ‘মোহিনী ধামাইল সংঘ’ ও ‘বিনোদিনী ধামাইল সংঘ’সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত জনপ্রিয় ধামাইল শিল্পী, রাধারমণভক্ত ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে সমাধি চত্বর হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। শিল্পীদের কণ্ঠে একের পর এক পরিবেশিত হয় রাধারমণের কালজয়ী গান। ধামাইলের তালে তালে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৬ মে ধামাইল নৃত্যের প্রবর্তক রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দিনটিকে ‘জাতীয় ধামাইল দিবস’ ঘোষণার দাবিতে “ধামালি চুনারুঘাট” সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। এর আগে একই বছরের ১৮ মে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ধামাইল দিবস পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরপর থেকে প্রতিবছরই সিলেটের বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তি পর্যায়ে “রাধারমণ স্মরণ দিবস” ও “ধামাইল দিবস” পালিত হয়ে আসছে।
এ আয়োজনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সংগঠনটির সভাপতি, লোকসংস্কৃতি সংগ্রাহক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহাম্মদ বাহার। তিনি বলেন, “ধামাইল আমাদের সিলেটের ঐতিহ্য, আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। আজ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ধামাইলপ্রেমীরা রাধারমণ দত্তের সমাধি চত্বরে সমবেত হয়েছেন। আমরা চাই, সরকারিভাবে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং ২৬ মে কে ‘জাতীয় ধামাইল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক।

0 Comments