বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : 


নদীমাতৃক বাংলাদেশের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল নৌকা। আধুনিক সড়ক ও যাতায়াত ব্যবস্থার প্রসারে গ্রামীণ জনপদে নৌকার কদর এক সময় কমে এলেও, বর্ষা মৌসুম এলেই চিত্রটা বদলে যায়। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়া খাল-বিল আর নদ-নদী ফিরে পায় যৌবন। আর ঠিক তখনই নতুন করে গুরুত্ব বাড়ে ঐতিহ্যবাহী নৌকার। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বৈরাগী বাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার বসে এক বিশাল নৌকার হাট, যা শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে।


সপ্তাহের নির্দিষ্ট এই দিনে বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মাকুন্দা নদীর চর যেন প্রাণ ফিরে পায়। সারি সারি সাজানো থাকে বিভিন্ন আকারের নৌকা। দুপুর থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত চলে কেনাবেচার ধুম। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর দরকষাকষিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নৌকার পাশাপাশি বিক্রেতারা পসরা সাজিয়ে বসেন হরেক রকমের বৈঠার।


স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, এই হাটে পাওয়া যায় জারুল, কড়ই, রেন্টি, শিরিশ, আম, জাম, চামরুল ও শিমুলসহ নানা জাতের কাঠের তৈরি নৌকা। মূলত কাঠের স্থায়িত্ব ও নৌকার আকারের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয় দাম। দীর্ঘস্থায়ী ও মজবুত হিসেবে জারুল কাঠের নৌকার চাহিদা ও দাম সবচেয়ে বেশি, অন্যদিকে সহজলভ্য শিমুল কাঠের নৌকা পাওয়া যায় সর্বনিম্ন দামে।


বন্যাপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতই যখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, তখন নৌকা হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা। 


বৈরাগী বাজারের এই নৌকার হাটের সঠিক ইতিহাস বা প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট সাল কারো জানা না থাকলেও, স্থানীয়দের মতে এটি প্রায় শতবর্ষী।


আধুনিকতার ছোঁয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হলেও, প্রকৃতির নিয়মেই বর্ষায় নৌকা হয়ে ওঠে অপরিহার্য। আর সিলেটের বিশ্বনাথের বৈরাগী বাজারের এই নৌকার হাট সেই চিরায়ত ঐতিহ্যকে আজও সগর্বে ধরে রেখেছে।