বিশ্বনাথ প্রতিনিধিঃ
একমাসে তিন বার চুরি হওয়া বিশ্বনাথ উপজেলার আলোচিত বিদ্যালয় লামাকাজী ইউনিয়নের সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চুরি ঘটনাটি পেপার পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হলেও তিনবার চুরি হওয়ার কারণ অনুসন্ধান, প্রতিকার ও করণীয় নির্ধারণ করতে একবারও দেখতে বা খবর নিতে আসেননি কোনো শিক্ষা কর্মকর্তা। রহস্যময় চুরির ঘটনায় ধরা পড়েনি কোনো চোর বা উদ্ধার হয়নি কোনো মালামাল। চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এখন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা শিউলি দাশের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গ্রামবাসী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপস্থিত হয়ে ৮০ জন ব্যাক্তির স্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ পত্র উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহিন মাহবুব বরাবরে দাখিল করেন।
অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়, অনিয়ম-দূর্নীতিগ্রস্থ প্রধান শিক্ষিকা শিউলি দাশের বিরুদ্ধে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আগেও একাধিকবার মৌখিকভাবে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার না পাওয়ায় গ্রামবাসী এখন ক্ষুব্ধ। প্রধান শিক্ষিকা শিউলি দাশের নানান অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ আমলে না নেওয়ার বিষয়ে গ্রামবাসীর দাবী করছেন শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে শিউলি দাশের সখ্যতা রয়েছে। সখ্যতা না থাকলে কেনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না শিক্ষা কর্মকর্তা।
প্রধান শিক্ষিকা সম্প্রতি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকদের উপেক্ষা করে নিজের পছন্দ মত লোক দিয়ে একটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন করে তা জমা দেন উপজেলা শিক্ষা অফিসে। এই কমিটি বাতিল করে সর্বজন জ্ঞাত কমিটি চুড়ান্ত করার ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি আজ আহবান জানান গ্রামবাসী।
অভিযোগ পত্রে গ্রামবাসী উল্লেখ করেন, বিগত ২১/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখ রবিবার প্রধান শিক্ষক শিউলি দাশ ও কিছু সংখ্যক অভিভাবক নিয়ে বিদ্যালয়ে এক সভার আয়োজন করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির গঠন করেন। এই সভায় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুব সমাজ ও সমাজের দ্বায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে প্রধান শিক্ষক কমিটি গঠনের বিষয়ে উপেক্ষা করেন। সভায় কিছু সংখ্যক অভিভাবকের আপত্তি থাকা সত্বেও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন করেন তিনি। অতীত থেকে বিভিন্ন সময় অনিয়ম-দূর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন প্রধান শিক্ষক শিউলি দাস। শিউলি দাশের দেওয়া বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের অনুরোধ জানানো হয় শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ের দ্বায়িত্ব থেকে অব্যহতি ও বদলির আবেদন জানান গ্রামবাসী।
অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহিন মাহবুব জানান গ্রামবাসী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহের কর্মদিবসে বিষয়টির তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 Comments