বিশ্বনাথ সিলেট প্রতিনিধিঃ
সিলেটের বিশ্বনাথে কুড়ালের আঘাতে মাজারের খাদেম শাহ আলম (২৪) খুন হয়েছেন।
নিহত শাহ আলম বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের মৃত ছিফত আলীর তৃতীয় পুত্র । শাহ আলম প্রতাপপুর গ্রামের নিজ বাড়ীর হযরত হানিফ শাহ মাওলা চিশতি (রঃ) মাজারের খাদিমের দায়িত্বে ছিলেন। খুনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারে চলছে আহাজারি।
বুধবার ( ১৫:এপ্রিল) বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আল-আজম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ঘাতক মিজানুর রহমান (৩২) কে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করতে সক্ষম হয়। মিজানুর রহমান উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের পশ্চিম ধলিপাড়া গ্রামের দলিল লেখক বশির উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহ আলম ও ঘাতক মিজানুর রহমান তারা দুজনই পূর্ব পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তারা এক সাথে চলাফেরা করে আসছে। আজ বুধবার দুপুরে শাহ আলম মিজানের কাছে পাওনা টাকা ফেরত আনতে তার বাড়িতে যায়। সেখানে গেলে মিজান তাকে ধারালো কুড়াল দিয়ে কাঁধে আঘাত করে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে মিজান কুড়াল নিয়ে শাহ আলমের ওপর আক্রমন করে। এতে শাহ আলম রক্তাক্ত হয়ে মাটি পড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম.জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘাতক মিজানুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। শাহ আলমের লাশটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। নিহতের পারিবারের পক্ষে এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মিজানকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।
শাহ আলম চিশতীর হত্যাকারীর ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তার মা আনোয়ার বেগম, বড় ভাই শাহ জাহান চিশতি ও পরিবারের সদস্যরা।

0 Comments