বিশ্বনাথ প্রতিনিধিঃ
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর আমানত রক্ষা, ‘অবৈধ’ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সিলেটের বিশ্বনাথে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’র আয়োজনে এক অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ৮ জুন (সোমবার) দুপুর ১২টায় বিশ্বনাথ পুরান বাজারস্থ ইসলামী ব্যাংকের সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অবস্থান কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় গ্রাহক আব্দুল মুকসিত আক্তারের পরিচালনায় কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী।
বক্তব্যে নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কল্যাণে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছিল| কিন্তু ২০১৭ সালে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বন্দুকের নলের মুখে পরিচালনা পর্ষদকে হাইজ্যাক করে ব্যাংকের মালিকানা কেড়ে নেয়। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বসে দেশের শ্রেষ্ঠ অর্থনৈতিক লুটেরা এস আলম গ্রুপের হাতে ব্যাংকটি তুলে দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এস আলম গ্রুপ ব্যাংক থেকে ১ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে মালিক সেজেছিল এবং বর্তমানে জনগণের ৮০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে| দেশের আড়াই কোটি গ্রাহক এই লুটেরা চক্রের সদস্য বর্তমান অবৈধ চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে| তাকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। তিনি আরোও বলেন, বর্তমানে রাতের অন্ধকারে অনলাইনে ব্যাংকের বোর্ড মিটিং হচ্ছে, রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ ও তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে। জুলাই বিপ্লব রাতের অন্ধকারে দেশ চালানোর জন্য কিংবা কোনো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান লুটেরাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য হয়নি। তরুণ সমাজ ˆবষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য রক্ত দিয়েছে| প্রয়োজনে আমরা আবার রক্ত দেব, কিন্তু ইসলামী ব্যাংককে লুটেরাদের হাতে যেতে দেব না। সচেতন গ্রাহক ফোরামের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “গ্রাহকদের ন্যায্য আন্দোলনে সরকারের লেলিয়ে দেওয়া লাঠিয়াল বাহিনী বর্বর হামলা চালিয়েছে| আমরা দাবি জানাচ্ছি— হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে, ব্যাংক থেকে সরিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধার করতে হবে এবং ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানকে ফিরিয়ে আনতে হবে| ব্যাংকের আমানত রক্ষা না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য রাখেন মাষ্টার ইমাদ উদ্দিন, আব্দুস সুবহান, মতিউর রহমান, বাবুল মিয়া, আশিকুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার জাহেদুর রহমান, সাবেক মেম্বার আব্দুল মজিদ, শামিম আহমদ, রুবেল আহমদ প্রমুখ।

0 Comments