বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:


সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামপাশা-লামাকাজী সড়কের ধলিপাড়া গ্রাম সংলগ্ন এলাকার রোববার (১২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে স্থানীয় সিএনজি অটোরিক্সা চালক মুক্তার মিয়া গাড়ি নিয়ে লামাকাজী থেকে রামপাশার দিকে ফেরার পথিমধ্যে ধলিপাড়া গ্রাম সংলগ্ন ‘পিছর মুখ’ নামক স্থানে এসে হঠাৎ তার সিএনজি অটোরিক্সাটি বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকার নির্জন রাস্তায় ঠিক তখনই তিনি শিশুটিরর কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। এগিয়ে গিয়ে দেখেন কোনো কাপড় ছাড়াই শুধু একটি পাতলা কাঁথায় মোড়ানো অবস্থায় পড়ে আছে এক নবজাতক। মুক্তার মিয়া তাৎক্ষণিক বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়েই বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আর সেখানেই সারারাত শিশুটিকে সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। রাত পোহানোর পর সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরম মমতায় শিশুটিকে দেখতে যান বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি, সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মনছুরা আক্তার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। এসময় বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি মাতৃস্নেহে সড়কে পাশে পাওয়া সেই নবজাতক কন্যা শিশুটিকে কোলে তুলে নেন এবং সেখানে উপস্থিত সবার সম্মতিতে শিশুটির রাখেন ‘ফাতেমা বেগম’। এর পূর্বে ইউএনও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির জন্য নতুন কাপড় ও প্রয়োজনীয় উপহার সামগ্রীও প্রদান করেন। এব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছেন, ‘শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘ফাতেমা’কে নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য সিলেটের বাগবাড়ীস্থ ‘ছোটমণি নিবাসে’ পাঠানো হয়েছে। সিএনজি অটোরিক্সা চালক মুক্তার মিয়া বলেন, লামাকাজী থেকে ফেরার পথিমধ্যে আমার গাড়িটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। সমস্যা খোঁজার জন্য আমি বাধ্য হয়েই গাড়ি থেকে নামতেই একটি শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পাই। আর শিশুর কান্নার শব্দ শুনে সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখি একটি নবজাতক শিশু পড়ে আছে। তখন আমি সাথে সাথেই বিষয়টি বিশ্বনাথ থানা পুলিশকে অবহিত করি। বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করি। আর চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। এতে শিশুটি একটি বড় ধরণের ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়। এব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি বলেন, আমরা সবাই মিলেই শিশুটির নাম ‘ফাতেমা’ রাখলাম। আর শিশুটিও সুস্থ আছে। ভবিষ্যৎ যেই শিশুটিকে দত্তক নেন না কেন, সবাই দোয়া করবেন আল্লাহর রহমতে সে যেনো একজন ভালো মানুষ হয়। রোববার রাত থেকে ওই শিশুটির জন্য বিশ্বনাথবাসীর ভালবাসা সত্যিই আমাকে মুদ্ধ করেছে।