এলাকাবাসীর সচেতনতার জন্যই টেংরা থেকে অলংকারি পর্যন্ত রাস্হাটি বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে

  -------প্রকৌশলী আবু সাইদ 

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

এলাকার দীর্ঘ দিনের পাকাকরণের দাবী ছিল বিশ্বনাথের টেংরা থেকে অলংকারি গ্রাম পর্যন্ত ১২শত মিটার রাস্হা পাকাকরণ। চরম লাঞ্চনা ও  আজীবন   চরম দূর্ভোগে নিপেতিত ছিলো টেংরার অধিবাসীরা।  রাস্হাটি দিয়ে অলংকারি সফতা উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে টেংরার শত শত ছাত্র ছাত্রী ছিল যাওয়া আসা। 

২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের  নির্বাচনে চারদলীয় জোট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হলে  সিলেট ২নং সংসদীয় বিশ্বনাথ - বালাগঞ্জ  নির্বাচনী আসনে অসংখ্য ও অগণিত রাস্হা পাকাকরণ হলেও কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে উক্ত রাস্হাটি পাকাকরণ সম্ভব হয় নাই!


স্বরজমিনে দেখাগেছে, মাত্র ১২শত মিটার রাস্হা। 

 রাস্হা দিয়ে টেংরা গ্রামের অধিবাসীরা অলংকারি ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার মাধ্যম ছিলো। অন্যদিকে টেংরা গ্রামের অধিবাসীদের ক্ষেতের জমিতে যাওয়া আসার অন্যতম একটি মাধ্যমও বটে রাস্হাটি। এই রাস্হার টেংরা থেকে ডান পাশে ২১ কিয়ার নিজস্ব ভূমির উপর টেংরা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী, সুরমা সোসাইটি ইউ'কের নবনির্বাচিত সভাপতি বশির আলী প্রায় ৩ কোটি টাকায় গড়ে তুলেছেন আমপল্লি বাগান বাড়ী। 


অন্যদিকে অলংকারি গ্রামে  হসপিটালে টেংরার লোকজন যাওয়া আসা করতেন এই রাস্হা দিয়ে। 

তাছাড়া অলংকারি গ্রামের সাথে টেংরা গ্রামের যোগাযোগ রক্ষাই হচ্ছে উক্ত রাস্হাটি। 


জানাগেছে, বিশ্বনাথের অলংকারি গ্রামের কৃতি সন্তান অলংকারি গ্রামের প্রকৌশলী আনোয়ার হোসাইন অনেক কষ্টের বিনিময়ে ২০২২ ইংরেজীতে এই ১২শত মিটার রাস্হা সরকারের ৯৫ লক্ষ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে রাস্হাটি  পাকাকরণ সরকারের সংলিষ্ট বিভাগ থেকে গৃহীত করেন।


বিনিময়ে এলাকাবাসী প্রকৌশলী আনোয়ার

 হোসেনকে জানালো প্রাণঢালা অভিনন্দন। টেংরা গ্রামের সর্বস্হরের যুবক ও মুরব্বিয়ানরা রাস্হা পাকাকরণে সহযোগীতায় এগিয়ে আসলেন তখন। 


 

রাস্হটির পাকাকরণের কাজ শুরু হলো ২০২২ ইংরেজীর বিপদজনক বন্যার কয়েক মাস পূর্বে। রাস্হটির ঠিকাদারী গ্রহণ করলেন অত্র এলাকার শান্ত প্রিয় একটি পরিবারের শান্ত প্রিয় একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব। জানায়ায়, বন্যার পূর্বে রাস্হাটির পাকাকরণের কাজ সূচনা হয়েছে। অন্যদিকে  বন্যার পরবর্তীতে দীর্ঘ দিন পরে রাস্হার কাজ একটি পর্যায় হলেও  ওই ঠিকাদার  কি জন্য যে,  কাজটি থেকে অপারগতা দেখিয়ে সড়ে দাঁড়ান! তখন আরো এক কঠিন সমস্যায় জর্জড়িত হয়েযান এই রাস্হার পাকাকরণের ভবিয্যৎ নিয়ে এলাকাবাসী।


ঠিকাদার রাস্হাটির ঠিকাদারীর দায়িত্বভার থেকে  

সড়ে যাওয়ার কারণে বিষয়টি টেংরার কিছু সচেতন ব্যক্তিবর্গ বিশ্বনাথ উপজেলা প্রকৌশলী আবু সাইদের সাথে যোগাযোগ করেন তাঁর উপজেলা কার্যলয়ে গিয়ে। 

টেংরার ওই  সচেতন ব্যক্তিদের অনুরোধে প্রকৌশলী আবু সাইদ রাস্হাটি সরকারের সংলিষ্ট দফতর থেকে  রি -টেন্ডারের ব্যবস্হা গ্রহণ করেন। রি- টেন্ডার হলো ২০২৪ ইংরেজীর শেষের দিকে। টেন্ডার বুঝিয়ে সরকারের সংলিষ্ট বিভাগ থেকে পাকাকরণের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন অন্য একজন  ঠিকাদার।

ফলে রাস্হাটি পাকাকরণের আবারও আলোর মুখ দেখলো। ২০২৫ ইংরেজীর প্রথম দিকে রাস্হা পাকাকরণ বাকী অসমাপ্ত কাজ শুরু হলো।


আজ ৫ মে সোমবার সকালে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রকৌশলী  আবু সাইদ রাস্হা পাকাকরণের কাজটি পরিদর্শন করেন এবং স্হানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের 

উপস্হিতিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এতে আরো বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি

 মোঃ শাহিন উদ্দিন।


উপজেলা প্রকৌশলী আবু সাইদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, এলাকাবাসীর সচেতনতার জন্যই টেংরা থেকে অলংকারি পর্যন্ত রাস্হাটি পাকাকরণ বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে নতুবা এই কাজটি সরকারের সংলিষ্ট দফতরে  ফিরিয়ে  যাওয়ার প্রচুর সম্ভবনা ছিলো। 


তিনি আরোও বলেন, আর মাত্র ৫ থেকে ৬ দিন 

লাগবে পাকাকরণের কাজ শেষ করতে এবং  কাজে কোনো ধরণের অনিয়ম হচ্ছেনা, যে ভাবে হচ্ছে কাজ ভালোই হচ্ছে। কাজে যদি কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হয় তাহলে তাকে সাথে সাথে অবগত করার আহবান জানান।


বিশ্বনাথ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তাঁর বক্তব্যে, প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী আবু সাইদ ও এলাকার সর্বস্হরের  অধিবাবাসীকে ধন্যবাদ জানান।


তিনি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিলু মিয়া, বর্তমান চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটন, সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল সহ ইউনিয়নের সাবেক বর্তমান  সকল জনপ্রতিনিধিকে শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করেন এবং তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


পরিদর্শন কালে এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন,  উপজেলা উপসহকারী ইঞ্জিনিয়ার অনুপ কুমার,  যুবনেতা মাহমুদ খাঁন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মারুফ,  সমাজসেবক আব্দুল হামিদ  ও কার্য সহকারি নাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।