বিশ্বনাথ প্রতিনিধিঃ
একটি পাকা ব্রীজ নির্মাণে খুলে যেতে পারে ৩ ইউনিয়নের মানুষের ভাগ্যের দুয়ার। তড়িৎ যোগাযোগ করা যাবে সিলেট শহরের সাথে। বারোমাসি সবজি উৎপাদনে বিখ্যাত এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে আসবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। পাশাপাশি জনজীবনে লাগব হবে দুর্ভোগ।
সিলেট শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দুরের এই জনপদের সাথে শহরকেন্দ্রিক ব্যবসা, চিকিৎসা, শিক্ষার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সফলতা এবং উন্নয়ন সাধিত হবে এটা বোদ্ধা মহলের দাবী।
পিছিয়ে থাকা এই জনপদের নাম সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি, লামাকাজী, রামপাশা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উত্তর বিশ্বনাথ এলাকা। এই এলাকার কমপক্ষে ১৪০টির বেশি গ্রামে দেড়লাখের বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে।
লামাকাজী ও খাজাঞ্চি ইউনিয়নের সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত খাজাঞ্চি নদীর উপর নির্মিত রেল সেতুর ২০ মিটার দক্ষিণাংশে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবী যুগের পর যুগ ধরে এই এলাকার বসতিদের। সর্বসাকুল্যে ২ কোটি টাকা খরচে একটি সেতু নির্মাণ হলে সরকারের রাজস্ব আয় হবে কয়েকগুণ বেশি।
উত্তর বিশ্বনাথ দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় রেল ব্রীজ সংলগ্ন পাকা ব্রীজ নির্মিত হলে খাজাঞ্চী ইউনিয়নের পশ্চিম পাড় ও পূর্ব পাড়ের মানুষের এবং লামাকাজী ও রামাপাশা ইউনিয়নের উত্তর বিশ্বনাথ এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তড়িৎ যোগাযোগ সহ স্থানীয় উন্নয়ন সাধিত হবে অনায়াসে। এছাড়া ব্রীজ সংলগ্ন উত্তর বিশ্বনাথ দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ে আগত ছাত্রছাত্রীদের রেলব্রীজ পারাপারে ঝুকি লাঘব হবে। ১৯৭২ সালে স্কুল প্রতিষ্ঠার পর এযাবত অনেকবার ব্রীজ নির্মাণের দাবী এলাকাবাসী করে আসলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কখনো কোনো উদ্যোগ নিতে আগ্রহ না দেখানোর কারণে আজও এই দাবী বাস্তবায়ন হয়নি এমনটি সাধারণ মানুষের অভিযোগ। একটি ইউনিয়নকে দুই পাড়ে বিভাজন করা খাজাঞ্চি নদীর পূর্ব পাড় থেকে স্থানীয় জনসাধারণ ও স্কুল কলেজে পড়ুয়ারা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এপারওপার হন। আর কতদিন রেলব্রীজ দিয়ে পারাপার হবেন, এমন প্রশ্ন কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের।
খাজাঞ্চী রেল স্টেশন থেকে পশ্চিম দিকে নদী পর্যন্ত পাহাড়পুর গ্রামের নদীপার এবং পশ্চিম পার্শ্বে প্রীতিগঞ্জ বাজার থেকে পূর্বদিক হয়ে নদীপার পর্যন্ত রেল লাইনের পাশ ঘেষে রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে আছে। ব্রীজটি নির্মাণ হলে উভয়পারে রাস্তার চলমান সংযোগ স্থাপিত হবে। ব্রীজ নির্মিত হলে কম সময়ে অত্র এলাকার মানুষ সিলেট শহরে যাতায়াতের সুযোগ পাবে। প্রত্যন্তঅঞ্চলে বসবাসকৃত ঝুকিপূর্ণ রোগীরা শহরে গিয়ে দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুয়োগ পাবে, বাঁচবে ঝুকিপূর্ণ রোগীর জীবন, সাশ্রয় হবে অর্থের। এছাড়া খাজাঞ্চী ইউনিয়নের পশ্চিমপারে অসংখ্য কৃষক, শ্রমিক, সবজী চাষীর জীবনেও আসবে গতিময়তা। তাজা সবজী কম সময়ে পরিবহন ব্যবস্থা করে কাংঙ্কিত আয়ে জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যে উদ্ভাসিত হওয়ার ধার উম্মোচন হতে পারে অনেকের। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় প্রশাসন এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে জরুরী ভেবে দেখার আকুলতা জানিছেন এলাকার গণ্যনান্য ব্যক্তিবর্গ।
পাকা সেতু নির্মাণের দাবী জানান খাজাঞ্চি ইউনিয়নের কান্দিগ্রামের কৃতিসন্তান ইসলামি স্কলার মাওলানা আব্দুল হাই জেহাদি, মাস্টার শাহীন উদ্দিন, পাহাড় পুর গ্রামের হাজী তেরা মিয়া, আকদ্দুছ আলী, পাকিছিরি গ্রামের সাংবাদিক মো. সায়েস্তা মিয়া, মাসুক আহমদ, হাজী মোঃ লোকমান উদ্দিন, জালাল উদ্দীন, প্রয়াগমহল গ্রামের সাংবাদিক মুহিবুর রহমান খালেদ, অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন, কাবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাহার, বাদশা মিয়া, ভোলাগঞ্জ গ্রামের সালিশ ব্যক্তিত্ব এসএম রফিক আহমদ, সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ুম, চন্দ্র গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সমুজ আলী, শিক্ষানবিশ আইনজীবী পলাশ সেনাপতি, আইনজীবী সহকারী শাহ নুর আলী, মদনপুর গ্রামের শিক্ষানবিশ আইনজীবী বিপ্লব দেব। লামাকাজী ইউনিয়নের দূর্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা ও প্রীতিগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুল গফুর, ইউপি সদস্য লাল মিয়া, কৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুল খালিক, আব্দুল গফুর। রামপাশা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের সাংবাদিক আব্দুল করিম, শামস উদ্দিন সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

0 Comments