বিশ্বনাথ প্রতিনিধি
সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরস্থ ‘হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ’র এডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ‘অভিভাবক সদস্য’ পদের ‘সদস্য’ অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিধি মোতাবেক নির্বাচিত করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের বরাবর লিখিত দাবী জানিয়েছেন। এছাড়াও গত ২৫.০২.২৫ ইং তারিখে ডকেট নং ৩২১২’র মাধ্যমে একই অভিযোগে অভিভাবকবৃন্দ আরেকটি পৃথক অভিযোগ দাখিল করে ছিলেন।
লিখিত অভিযোগে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উল্লেখ করেছেন, বিশ্বনাথের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে ‘হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’ আমাদের গর্বের বিদ্যাপীঠ। দেখা গেছে সরকারি বিধিমত এডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ পাওয়ার পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খাইরুল আলম ফকির তা করতে কোন সঠিক ও কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহন করেন নি। একপর্যায়ে আমাদের পীড়াপীড়িতে উনি তা করতে রাজি হন। সরকারি বিধি মোতাবেক অভিভাবকদের ভোটে অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকা স্বত্তে¡ও সরকারি বিধি অমান্য করে উনি নিজের পছন্দের একজন মহিলা নাম ঠিক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’র নিকট জমা দেন। আমরা তা জানতে পেরে গত ৩০.০১.২৫ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করি। আর সেই লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় সাথে সাথেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খাইরুল আলম ফকিরকে আমাদের উপস্থিতিতে বলেন যে, অভিভাবকদেরকে চিঠি ইন্স্যু করে অভিভাবক সমাবেশ ডেকে অভিভাবক সদস্য নির্বাচন করে অভিভাবক সদস্যের নাম দেওয়ার জন্য। এতে উনার (খাইরুল আলম ফকির) পছন্দের প্রার্থী ছমিরুন নেছার নাম আসলেও আর কারও আপত্তি থাকবে না। সেই নিদের্শনার প্রেক্ষিতে খায়রুল আলম ফকির গত ৫.০২.২৫ইং তারিখে অভিভাবকবৃন্দের সভা আহবান করেন। সভার দিন আমরা অভিভাবকরা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’র প্রতিনিধি একাডেমিক সুপার আব্দুল হামিদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসি। আমরা আসার সাথে সাথে উনি (খাইরুল আলম ফকির) উনার মনোনীত কয়েক জন ছাত্রী দিয়ে ভ‚য়া ভ‚য়া ¯েøাগান দিয়ে আমাদেরকে বেরিয়ে যেতে বলেন। আমরা সাথে সাথেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিকট যাই এবং আমাদেরকে আমাদের সন্তানদের দিয়ে অপমানিত করার ন্যায্য বিচার দাবি করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উনাকে (খাইরুল আলম ফকির) ডেকে নিয়ে আমাদের সামনে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে কেন এমন আচরণ করলেন তা জানিয়ে জবাব দিতে বলেন। কিন্তু আমরা পরে জানতে পারি উনি কোন জবাব দেন নাই, বরং উনার আগের পছন্দের প্রার্থীর (ছমিরুন নেছা) নাম দিয়ে বোর্ডে কমিটির জন্য প্রেরণ করেছেন। আর এসব ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী হচ্ছেন বিশ্বনাথের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায়।
তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষার স্বার্থে সরকারি বিধি মোতাবেক ‘হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ’র এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে নির্বাচিত করার এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম ফকিরের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রæত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে প্রদান করা লিখিত অভিযোগে জোর দাবী জানিয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
নিজের উপর উত্তাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে ‘হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম ফকির বলেন, ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমি সকল অভিভাবকদেরকে চিঠির দিয়ে দাওয়াত করে সভা আহবান করি। সেই সভায় যে সকল অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, তারা নিজেদের মতামতের প্রেক্ষিতে ৩টি নাম নির্বাচিত করেন। আমি সেই নামগুলো ইউএনও মহোদয়ের কাছে প্রেরণ করলে সেখানে ‘অভিভাবক সদস্য’র জন্য একটি নাম চ‚ড়ান্ত হয়। অতপর সেই নামটি আমি বোর্ডে প্রেরণ করেছি। এছাড়া এখানে আমার আর কোন হাত নেই।

0 Comments