,
মো:সাইফুল ইসলাম, আখাউড়া।
ভারতে ৯ মাস জেল খেটে দেশে ফিরলেন, মেয়েকে দেখে অশ্রুসিক্ত ফারজানা
পাঁচ বছর বয়সী আরিশাকে কোলে নিয়ে আদর করছে মা। মেয়েও মাকে পেয়ে জড়িয়ে চুমু খাচ্ছে। মায়ের চোখে অশ্রু, তাহলো আনন্দের অশ্রু। জড়ানো কন্ঠে মা ফারজানা আহমেদ বলছেন আমি নয় মাস আমার মেয়েকে কাছে পাওয়ার জন্য খুব অপেক্ষা করেছি। পাঁচ মাস আমি আমার মেয়ের সাথে কথা বলতে পারি নাই। যখন আমি হোমে আসছি তখন মোবাইল দিয়ে মেয়ের সাথে কথা বলেছি। নয় মাস পর মা মেয়ের এই মিলনের দৃশ্য আখাউড়া সীমান্তের শূন্য রেখায় উপস্থিত সবার চোখ অশ্রুসিক্ত করেছে।
অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে আটকা পরে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরে এসেছেন ফারজানা আহমেদ, ভারতের ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বেলা ২টার দিকে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাকে সহ ১১ জন বাংলাদেশিকে হস্তান্তর করা হয়।
ফারজানা আহমেদ নিপা বলেন, আমি কুমিল্লার কমল নগর বা সোনামুড়া আমি ঠিক বলতে পারছি না। আমি জানি না আমি কোন বর্ডার দিয়ে ভারতে গিয়েছি। আমি নয় মাস আমার মেয়েকে কাছে পাওয়ার জন্য খুব অপেক্ষা করেছি। পাঁচ মাস আমি আমার মেয়ের সাথে কথা বলতে পারি নাই। যখন আমি হোমে আসছি তখন মোবাইল দিয়ে মেয়ের সাথে কথা বলেছি।নয় মাস পর মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরেছি।
আমার এলাকার পরিচিত বন্ধুরা আছে ভারতের ব্যাঙ্গালোরে তারা চার বছর ধরে ওখানে আছে। আমি তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা প্রসেস করে। আমি পার্লারের কাজ জানি ওখানে পার্লারের কাজ করতেই গিয়েছিলাম। যাওয়ার একদিন পর আমি পুলিশের হাতে ধরা পরি। এভাবে ভারতে যাওয়াটা আমার একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।
ফারজানা আহমেদ নিপার মা রাবেয়া আক্তার বলেন, আমার মেয়ে বান্ধবীর সাথে ঘুরতে গিয়ে ভারতে চলে যায়। সেখানে পুলিশের হাতে আটকা পরে। মেয়ে ফিরে পেয়ে ভালো লাগছে।
ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনের কনসুলার এসিস্টেন্ট ওমর শরীফ বলেন, ৭-৮ মাস আগে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয় ফারজানা আহমেদসহ ১১জন। আদালতের মাধ্যমে কারাভোগ শেষে তাদেরকে ত্রিপুরায় অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টারে রাখায় হয়।
জানতে পেরে বাংলাদেশ সরকারকে তাদের নাম ঠিকানা পাঠাই। নাগরিকত্ব যাচাই শেষে ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিগকে আমরা প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করি। আরো ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছে। তাদের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়াধীন।

0 Comments